Tuesday, 21 July 2026

ঘরে কেন বসে রয়েছি বেকার - দেবাশীষ দেবের বই - Re: Satyajit Ray's stories -2026

এক মুঠোয় ধরে যাবে বইটি। ভাষা প্রকাশনীর ইমপ্রিন্ট বিসর্গ থেকে সদ্য প্রকাশিত শিল্পী
“ঘরে কেন বসে রয়েছি বেকার”। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা-গল্প-শঙ্কু কাহিনিতে ছড়িয়ে থাকা ভ্রমণের অনুষঙ্গ নিয়ে এক রত্তি বই। কথামুখে লেখক উল্লেখ করেছেন, “সত্যজিৎ রায় তাঁর সমগ্র কিশোর সাহিত্যের মধ্যে ভ্রমণের বিষয়টাকে চিরকাল কতখানি গুরুত্ব দিয়েছেন সেটা তাঁর পাঠকমাত্রই লক্ষ করে থাকবেন। এ ব্যাপারে ফেলুদার গোয়েন্দাকাহিনি বা প্রোফেসর শঙ্কুর অ্যাডভেঞ্চারধর্মী লেখাগুলো বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে আলোচিত হয়েছে অনেক বেশি। সেই তুলনায় আজও মনে হয় কিছুটা আড়ালে থেকে গেছে তাঁর বেশ কিছু ছোটোগল্প যার মূল কাঠামোটাই গড়ে উঠেছে বেড়ানোর নানা প্রসঙ্গকে কেন্দ্র করে। দেখা যায় এখানে ব্যস্ত শহুরে জীবনের একঘেয়েমি থেকে ছুটি নিয়ে হাওয়াবদল করতে যাওয়ার ইতিবাচক পরিণামের কথাও সত্যজিৎ সরাসরি তুলে ধরেছেন বিভিন্ন চরিত্র আর ঘটনার মধ্যে দিয়ে। ওঁর লেখালিখির এই দিকটা সম্পর্কে আমার নিজের উৎসাহ ছিল দীর্ঘদিনের আর সেই কারণেই একসময় তাগিদ তৈরি হয় তাঁর বিশেষ কিছু গল্পকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার। ফলাফল যা হাতে এল সেসব গুছিয়ে নিয়ে লিখে ফেললাম একটা প্রবন্ধ, যেটা প্রকাশিত হয় ২০০৮ সালে 'যারা পরিযায়ী' পত্রিকার শারদসংখ্যায়। লেখাটার জন্য সবার কাছে তারিফ কুড়িয়ে এরপর হাত দিলাম শঙ্কু কাহিনিগুলোতে। এখানে বেড়ানোর অংশটা ক্ষেত্রবিশেষে আরো বিস্তৃত হওয়ার ফলে লেখাটিও বেশ দীর্ঘ হয়ে দাঁড়ায়, যদিও পরের বছরেই সেটা একইভাবে ছাপা হয় ‘যারা পরিযায়ী'র শারদসংখ্যায়।” এই দুটি প্রবন্ধের পরিমার্জিত রূপ নিয়েই বইটি, বিন্যস্ত হয়েছে উপযুক্ত পর্ব-এ। এখানে তাই আলাদাভাবে দুটি প্রবন্ধ হিসেবে নেই লেখাটি, আছে পর্বে পর্বে লেখা সত্যজিতের ভ্রমণস্পৃহার এক অন্তরঙ্গ ছবি। খুবই স্বাদু ভাষায় লিখিত বইটি, ঝরঝরে ও সাবলীল। একটানে পড়া হয়ে যাবেই। লেখক আগ্রহ জানিয়েছেন ফেলুকাহিনির ভ্রমণ নিয়ে এমনই আরেকটা বই নির্মাণের। প্রতীক্ষা রইল আগামী বইয়ের জন্য। এই বইয়ে প্রতি পর্বের শিরোচ্ছবিতে আছে দেবাশীষ দেবের ইলাস্ট্রেশনে সত্যজিতের চরিত্র, সেও কম আকর্ষণীয় নয়!

No comments:

Post a Comment