Tuesday, 12 May 2026

প্রাক্-ব্রিটিশ কলকাতা - প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়

৪০০/- ছাড় ২০% ______________________ ▫️▫️পাবেন Dhyan Bindu এর কলেজ স্ট্রীটের কাউন্টারে। ________________________ ▫️▫️ Dhyan Bindu এর কাউন্টার পাঠকের জন্য খোলা বেলা সাড়ে বারোটা থেকে রাত আটটা অবধি। যেকোন দরকারে কাউন্টারে ফোন করে নিন ৯৮৩৬৫৫৪২০৩, ৮৭৭৭৪৭৬৯১০

BANALIR KOLKATA SANSAR O SAMAJ-PRADIP NARAYAN GHOSH

আমি কলকাতা শহর নিয়ে ব‌ইপত্র পড়তে ভালোবাসি। আমার সংগ্রহে বেশ কিছু কলকাতার উপর ব‌ই আছে যার মধ্যে একটি প্রিয় ব‌ই হলো মহেন্দ্র নাথ দত্তের 'কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা'। ব‌ইটির বড়ো গুণ এর ভাষা। বৈঠকি চালে ব‌ইটি লেখা। পড়ার সময় মনে হয় লেখক বুঝি বলছেন। মাস খানেক আগে এমন‌ই একটি অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে লেখা ব‌ই হাতে এল। নাম 'বাঙালির কলকাতা: সংসার ও সমাজ'। লেখক প্রদীপ নারায়ণ ঘোষ। ব‌ইটিতে মোট চারটি ভাগ আছে। একটি প্রাক্-স্বাধীনতা পর্ব আর অন্য তিনটি স্বাধীনতা- উত্তর চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশক, ষাটের দশক এবং সত্তরের দশক। প্রথম পর্বটিতে পারিবারিক নানা আকর্ষণীয় ঘটনার উল্লেখ আছে যার মধ্যে নতুন ব‌উয়ের নতুন রীতির শাড়ি পড়া থেকে বিদেশি ভূতের কথা আছে। শরৎচন্দ্রকে নিয়ে ছ'টি লেখা আছে তেমন‌ই আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সি. ভি. রমন, বারীন্দ্রমোহন সালের মতো বিশিষ্ট মানুষদের অবদানের আলোচনা আছে।‌ বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষৎ, জাতীয় বিদ্যালয় , কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও এসেছে। প্রথম পর্বের অনেকটাই পুরোনো মানুষজনের কাছে শোনা আর দ্বিতীয় পর্বের প্রায় সব‌ই নিজের চোখে দেখা। এর মধ্যে পঞ্চাশের দশকে চালের জন্যে হাহাকার, কালীঘাট ফলতা রেলওয়ে, নয়া পয়সা বাঙালির মিষ্টি, ডাংগুলি খেলা ইত্যাদি নানা বিষয় এসেছে। ষাটের দশকে ঘটি বাঙালের ফুটবল, শান্তিনিকেতনের রতনকুঠি, দক্ষিণ কলকাতার গুণ্ডা সংস্কৃতি, বাংলা নাটক, বাংলা সিনেমা, নকশাল আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে সুখপাঠ্য স্মৃতিচারণ আছে। সত্তর দশক পর্বে উত্তর কলকাতার অলিগলি, বাংলাদেশের সৃষ্টি, জরুরি অবস্থা ইত্যাদি জায়গা করে নিয়েছে। ব‌ইটিতে কলকাতার তিনটি জায়গার কথা বিশেষ ভাবে এসেছে। একটি বৌবাজার অঞ্চলের ক্রিক রো, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার অঞ্চল আর দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট-হাজরা অঞ্চল। মজার বিষয় হলো এই তিন জায়গাতেই আমি থেকেছি। ফলে তাঁর বেশ কিছু বর্ণনার সঙ্গে আমার স্মৃতি ও জড়িয়ে আছে। মাঝে দু' দশকের একটা দূরত্ব আছে।‌ তাতে কিছু জিনিস বদলেছে কিন্তু আমূল পরিবর্তন হয়নি। এটা কলকাতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নতুন আসে কিন্তু পুরোনো অনেক কিছু থেকে যায়। যেমন খাটে ওঠার সিঁড়ি আর চিলেকোঠার ঘরে বড়ো পিসিমার হাতে লেখা গানের খাতা।

বাংলা নাটক বাঙালির নাটক ড. সুরঞ্জন মিদ্দে -Bangla Natak Bangalir Natak by Suranjan Midde

বাঙালির মঞ্চযাত্রার পথিকৃৎ বিদেশি গেরাসিম লেবেডেফ থেকে বাঙালি সেলিম আলদীন পর্যন্ত— এক দীর্ঘ নাট্যযাত্রার ইতিহাস-কে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলার নাটক শুধু প্রতিবাদী না, জীবন-মরণের সংগ্রামও। বাংলার নাটক শুধু ভারতবর্ষে নয়, ইউরোপেও সাড়া জাগিয়েছিল। এই নাট্যগ্রন্থ দুই বাংলার সেই উত্তাল সময়ের সংযমী নাট্যপর্যালোচনা। বাংলার প্রধান নাট্যকারদের নাট্য-বিষয়ক একুশটি গবেষণা মূলক প্রবন্ধ এই বইটিতে আছে। কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠস্পৃহা বাড়াবার তাগিদে বিষয়গুলির সংযোজন করা হয়েছে। বাংলা নাট্যচর্চাকে দুটি পর্বে ভাগ করা হয়েছে— এক, প্রাক্-রবীন্দ্রনাথ এবং দুই, রবীন্দ্র পরবর্তী বাংলা নাটকের ঐশ্বর্য অংশ। রবীন্দ্রনাথের 'রক্তকরবী' নাটক-কে বাদ দিয়ে, বাংলা নাটক চর্চা অসম্ভব। একুশটি নাট্যপ্রবন্ধের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের চারটি প্রবন্ধ এবং সদ্য প্রয়াত নাট্যকার মনোজ মিত্রের দুটি প্রবন্ধ আছে, যা মনোজ মিত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে বাড়তি সংযোজন বাংলাদেশের চার বিশিষ্ট নাট্য-ব্যক্তিত্বের বিস্তারিত বিশ্লেষণ আছে। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন মিদ্দের 'বাংলা নাটক বাঙালির নাটক' বইটিকে তিনটি পর্ব ছাড়াও বিশেষ সংযোজনে কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'দ্য পার্সিকিউটেড' (১৮৩১) (আধুনিক বাঙালির লেখা প্রথম নাটক) এবং অতিরিক্ত সংযোজনে শতাধিক নাট্য গ্রন্থের আকর ও দুষ্প্রাপ্য পুস্তক-পত্রিকাপঞ্জি, যা নাট্য-গবেষকদের গুরুত্বপূর্ণ কাজে লাগবে।
মূল্য - ৫০০ টাকা প্রাপ্তিস্থান - লালমাটি প্রকাশন ৩,শ্যামচরণ দে স্ট্রিট, কলেজস্ট্রিট কলকাতা- ৭০০০৭৩ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর- ৯১৪৩২২৯৫৮৫

Monday, 11 May 2026

সর্প -সংস্কৃতি ও মনসা। অঞ্জন সেন ও শেখ মকবুল ইসলাম সম্পাদিত । SARPA-SANSKRITI O MANASA EDITED BY ANJAN SEN & Sk MAKBUL ISLAM

-1.05 GB-26 TRACKS-SVH audiobook in Bengali for the Blind & Print-disabled students & teachers-West Bengal University syllabus UG-PG-PhD-Bengali Language & Literature-Sociology-Performing Arts-research on the folklore narrative & regional deities of Bengal-SVH Recordist & Digital Editor Hena Basu-uploaded by Hena Basu on 11 May 2026 from SVH Braille & Digital Audiobook Library, State Central Library WB, Kankurgachi, Kolkata 700054. Dedicated to May-a Mental Health Disability Awareness Month.

Friday, 8 May 2026

Chalar pather chalandar by Mihir Sengupta

তপনদা বরিশালকে কোনোদিন ভোলেননি। তার ‘বাঙালনামা’ লিখতে গিয়ে লেখাটা দুনিয়ানামা বা বিশ্বনামা হয়ে গিয়েছিল। কারণ, গোটা পৃথিবীই একসময় তাঁর কাছে বরিশাল হয়ে উঠেছিল। ২০০০ সালে কলকাতা এসে একদিন ফোনে বললেন, ‘তোমাদের হাসিদির এত দিনেও শ্বশুরবাড়ির ভিটে দেখা হয়ে ওঠেনি। কোনো ব্যবস্থা করতে পারো?’ বললাম, আমি তো প্রতিবছরই একবার দুবার যাই। এবার চলুন না ফেব্রুয়ারি মাসে যাই বরিশালে। আমি সঙ্গে থাকলে আপনাদের অসুবিধে হবে না আশা করি।’ ‘তাই ভাবছিলাম। তবে ভিসা টিসার ব্যবস্থা তোমাকেই করতে হবে। আমাদের কিন্তু আবার ব্রিটিশ পাসপোর্ট।’ বললাম, ‘দালাল ধরে করিয়ে নেব। তবে খরচ একটু বেশি।’ ঠিক হলো, আমি কয়েকদিন আগেই তাঁদের একদার “নিজ মৌজা” কীর্তিপাশা যাব। কাছেই আমার কুটুম্ববাড়ি। সেখানে উঠে তপনদার পৈতৃক প্রাসাদ দর্শন করানোর ব্যবস্থা করব। প্রাসাদের সামনের অংশের দোতলার হলঘরে এখন একটা মেয়েদের ইশকুল। নিচের অংশে ইশকুলের অফিস, শিক্ষকদের বসার ঘর, এইসব। এছাড়া বাড়ির সামনের দিকে তপনদার ঠাকুরদার পিতৃনামে প্রতিষ্ঠিত প্রসন্নকুমার উচ্চ বিদ্যালয়। ইশকুলের সামনে প্রকাণ্ড ফুটবল মাঠ এবং একদিকে একটি বেশ বড় দিঘি। মাস্টারমশাই এবং ইশকুল কর্তৃপক্ষের সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই মাঠে এবং প্রাসাদের হলঘরে দুটি আলাদা সভার বন্দোবস্ত করা হলো। মধ্যাহ্নভোজন আমার শ্বশুরালয়ে। তপনদার বাবার নাম কৌলিকভাবে অমিয় সেন। ডাকনাম স্থানীয় পরম্পরায় চাঁদবাবু। রায়চৌধুরী উপাধি নাকি নবাবি আমলের। কেউ ব্যবহার করেন, কেউ করেন না। তাঁদের জমিদারির দুটি ভাগ— বড়ো হিস্যা এবং ছোটো হিস্যা। একদা একত্রিতই ছিল। পরবর্তীকালে বিভক্ত। প্রাসাদের মাঝখানের দেয়ালটা তপনদার ভাষায় বর্ণনায় ‘বার্লিন ওয়াল’। দুটো অংশই এখন বেশিরভাগ খণ্ডহর বা ধ্বংসস্তূপ। শুধু বড় হিস্যার সামনের অংশটি অট্টালিকা প্রাসাদত্বের অহংকার এখনও ঘোষণা করে চলেছে। এ প্রসঙ্গে খুঁটিনাটি অনেক কিছুই বর্ণনীয় থাকলেও নিষ্প্রয়োজনে রচনা প্রলম্বিত করছি না। তপনদার কাছে লেখা সেই সুদীর্ঘ পত্র নিবন্ধটি যেটি তাঁর রোমন্থন-এর দ্বিতীয় সংস্করণেও অঙ্গীভূত হয়েছে, সেখানে পাওয়া যাবে। নামকরণ করা হয়েছিল ‘আহ্লাদে ফাউকানো অথবা ভাটিপুত্রর পত্র বাখোয়াজি’। তপনদা আমাকে বলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ব্যারিস্টার কামরুল হাসান সাহেবকে ঢাকায় যোগাযোগ করে জলপথে বরিশাল আসার ব্যবস্থা করে রাখতে। তিনি এয়ারে হাসিদি সহ ঢাকা গিয়ে তাঁর অতিথি হবেন। পরের দিন বরিশালে আমি তাঁদের রিসিভ করে গাড়িতে কীর্তিপাশা নিয়ে আসব। ফোন মারফত কামরুল হাসানকে যোগাযোগ করতে তিনি জানালেন, জলপথে ভালো ব্যবস্থা করা যায়নি। তপনদারা ঢাকা-বরিশাল প্লেনে আসবেন। আমি আমার কুটুম্বদের নিয়ে ঝালকাঠি শহরে তাঁদের নৈশবাসের ব্যবস্থা করে তাঁদের আসার আগের দিন ঝালকাঠিতেই রাত কাটালাম। পরদিন ভোরে গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম বরিশাল এয়ার স্টেশনে। তাঁরা এলেন। পথে বললেন, ‘কালকে ঢাকা ফেরার ব্যবস্থাটা কী করবে?’ জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার ইচ্ছে কী?’ ‘বহুকালের শখ, সেই ছোটোবেলার “ইস্টিমার”, ওই যে ফ্লেমিংগো কোম্পানি টোম্পানির জাহাজ টাহাজ তার একটায় আর একবার অন্তত ভ্রমণ করা।’ হায়রে বাঙালের নস্টালজিয়া! হায়রে হারানো ফুরোনো দিনকে ফিরে দেখার বা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা!! তা তো দেখছি কাউকেই ছাড়ে না! তবু ভাগ্য ভালো যে তপনদা জ্যোতিঠাকুরের মিনিমাত্রা ইস্টিমারে চাপার বায়না ধরেননি। বললাম, ‘স্টিমার সার্ভিসের চল এখন খুব একটা নেই। একটা স্টিমার অনিয়মিতভাবে চলে। তবে সেটা ফ্লেমিঙ্গের নয়। ব্যবস্থা একটা করেছি। কাল সন্ধেয়। কিন্তু আমি সঙ্গে থাকব না। গ্রামে আর কয়েকটা দিন কাটিয়ে বাসে ফিরব।’ ‘কীভাবে ঠিক করলে?’ ‘পুষ্প, মানে আমার এক বন্ধুর বোন বরিশালে থাকে। ওর বর খুব বড় উকিল এখানে। ওই পুষ্পর ঘাড়ে দায়িত্ব চাপিয়েছি। কোনো অসুবিধে হবে না। সে একেবারে ‘থাকিবার, খাইবার, শুইবার সুবন্দোবস্ত, সুন্দরী স্ত্রীর সহিত একত্র বন্দোবস্ত।’ তবে শর্ত আছে। কাল, আমাদের সবার পুষ্পর বাসায় মধ্যাহ্নভোজ খেতে হবে। তবে আমার অভিজ্ঞতা, ব্যাপারটা ভয়াবহ। ওর বর যেমন খায়, তেমন খাওয়ায়। ‘সামান্য দশ পদ মাছ’ ছাড়া তার আয়োজন মোটামুটিও হয় না।’ তপনদা বললেন, ‘খাইছে।’ সুদীর্ঘ পরবাসেও বিশুদ্ধ ‘চান্দ্রদ্বীপি’ তাঁর সঙ্গ ছাড়েনি। পথঘাট তাঁর স্মৃতির ছবির অনুসারী ছিল না। তা থাকার কথাও এত দিনের পর থাকে না। বছর পঞ্চাশেক আগে নাকি একবার এসেছিলেন। তবে কীর্তিপাশার বাড়িতে যাননি। বরিশাল স্টিমার ঘাটের কাছে ‘নাবালক লজ’টা তখনও দেখতে পেয়েছিলেন। কাল ফেরার পথে দুটো জায়গায় যাওয়ার ইচ্ছে। নাবালক লজ এবং জিলা ইশকুলটা, তপনদার প্রপিতামহের শিশু বয়সে এক প্রাসাদ ষড়যন্ত্রে তাঁর (অর্থাৎ প্রপিতামহের) পিতা রাজকুমার বিষপ্রয়োগে নিহত হন। তাঁর স্ত্রী ‘সতী’ হয়েছিলেন। পরিবারে তখন মাৎস্যন্যায়ী অনাচার। তৎকালীন ব্রিটিশ জেলা শাসক নাবালক প্রসন্নকুমারের দায়দায়িত্ব এবং বিষয় সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ স্বহস্তে গ্রহণ করে তাঁকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলেন। জমিদারি এস্টেটটি তদবধি ‘নাবালক বাবুর এস্টেট’ এবং তাঁর বড় হয়ে ওঠার পরের বরিশালস্থ বাসস্থানটির নাম হয় ‘নাবালক বাবুর লজ’। বরিশাল-ঝালকাঠি রোড ধরে যাবার সময় তপনদা সেদিন এইসব গল্প শোনাচ্ছিলেন। অবশ্য এসব গল্প তার বটঠাকুরদা রোহিণী কুমারের ‘বাক্কা’ গ্রন্থে আমি আগেই পড়েছিলাম। গল্পের মধ্যে, মাঝে মাঝে তিনি এবং আমি ‘ফুট’ কেটে চলেছিলাম। হাসিদি হাসছিলেন। মজা করে বলেছিলাম, ‘হাসিদি, আপনি ওই পরিবারে আসার পরেই কি তপনদারা সাবালক হলেন?’ হাসিদি বললেন, ‘কি জানি? পুরোটা বোধ হয় এখনও হননি। দেখো না, কথাবার্তার শ্রী। যেমন কথায়, তেমন লেখায়।’ তপনদা বললেন, ‘অনেক পুরুষের অভ্যেস তো, তা ছাড়া এস্টেটের অন্ন কিছুটা হলেও তো খেয়েছি, এস্টেটটা গেছে, কিন্তু নাবালকত্বটা রয়েই গেছে। ওটা সামন্ত-আভিজাত্য। তুমি ঠিক বুঝবে না।’ হাসিদি বলেছিলেন, ‘ভাগ্যিস্! বুঝলে তোমারই মুশকিল হতো।’ গাড়ি আস্তে চলছিল। মাঝে মাঝে দাঁড় করিয়ে তপনদা হাসিদিকে নদী, পথঘাটের বিশেষ বিশেষ জায়গার স্মৃতি-ইতিহাস বলছিলেন। কোনটা কালিজিরা নদী, সেটাই প্রাচীন সুগন্ধার অবশেষ কি না, বর্তমান ঝালকাঠি নদীটাই শেষতক সুগন্ধার স্মৃতিবাহী নদী কি না— এইসব। ইশকুল জীবনে, নাবালক লজ থেকে বাড়ি যেতেন সাইকেলে। সঙ্গে থাকতেন একজন ইংরেজ সাহেব— পারিবারিকভাবে পরিচিত, কী যেন নাম— ভুলে গেছি। বরিশালি ভাষায় দক্ষতা ছিল। তপনদা বললেন, ‘এইসব জায়গায় হঠাৎ সাইকেল থামিয়ে নেমে পড়ে সাহেব একপাক নেচে, গেয়ে নিত- ‘আইজ ঠাকুমার রান্ধন খামু।’ ঠাকুমা নাকি রন্ধনে দ্রৌপদী, তপনদা বলেছিলেন। হাসিদি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বাকিটা?’ হাসিদি ঠাকুমার পতির সংখ্যাটা দ্রৌপদী প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করেছিলেন। আমি বলেছিলাম, ‘পরিবারে কিন্তু প্রসন্নবাবুর মা এবং ঠাকুমা দুজন ‘সতী’ হয়েছিলেন, সামলে কথা বলবেন। গেলে, দু-দুখানা সতীস্থান দেখতে পাবেন।’ আমাদের রাস্তা গিয়ে তার অ্যাসফল্টত্ব হারাল কীর্তিপাশা বাজারের বিপরীত পারে এক ব্রিজের গোড়ায়। ব্রিজটা কংক্রিটের না হলেও তার ওপর দিয়ে গাড়ি যাবে। ওপার থেকে বাজারের শুরু। তার মাঝখান দিয়েই রাস্তা। কিন্তু এখন সংকীর্ণ। গাড়ি আস্তে আস্তে চলল। এই বাজার, রাস্তা এবং এলাকা তপনদাদের ‘নিজমৌজা’, একেবারে নিজস্ব ভূমি। কম করে আশপাশ দশগ্রামের মানুষ হাজারে হাজারে ভিড় করে রাস্তা প্রায় অবরুদ্ধ করে ফেলেছে। হাসিদির হাঁটুতে আর্থারাইটিস। হেঁটে যেতে পারবেন না। পুষ্পকে বললাম, ‘তুই হাসিদির দায়িত্বে থাক। আমি তপনদাকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছি’। সঙ্গে অবশ্য ঝালকাঠি থেকে আমার বড় শ্যালিকাও ছিলেন। ওঁরা গাড়িতেই ইশকুলের মাঠ অবধি যাবেন। তপনদা বললেন, ‘এ বেশ হলো। পথি নারী আবর্জনা।’ অবশ্য নারীরা কথাটা শোনেননি। তাহলে আবর্জিতা বোধে বিবর্জিতা টের পাইয়ে দিতেন। বললাম, ‘পুষ্প কিন্তু বরিশালের মহিলা সমিতির নেত্রী।’ তপনদা বললেন, ‘বাবারে!’ কিন্তু হাঁটার উপায় নেই। কীর্তিপাশা এখনও হিন্দুপ্রধান গ্রাম। উত্তরের বিস্তীর্ণ বিল অঞ্চলের গ্রামগুলো নমঃশূদ্র সমাজ অধ্যুষিত। অন্যান্য গ্রাম সবই মুসলমানপ্রধান। বাজারসংলগ্ন বসতির অধিকাংশ— সবই মুসলমান প্রধান। বাজারসংলগ্ন বসতির অধিকাংশ মানুষ কর্মকার সমাজের। এঁরা শিক্ষা সংস্কৃতিতে খুবই উন্নত, যদিও এখন আর আগের ব্যাপকতা নেই। তথাকথিত শিক্ষিত হিন্দু উচ্চবর্ণীয় ভদ্দরলোক প্রায় নেই এবং ভাগ্যিস্! মানুষগুলো সব বয়স ধর্ম নির্বিশেষে রাস্তায় পড়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত করছে তাদের একদার রাজপুত্রকে। তপনদার দুচোখে অঝোর ধারা। মানুষটিকে কোনো দিন আদৌ আবেগপ্রবণ দেখিনি। একজন একজন করে বুকে জড়িয়ে ধরে এখন কাঁদছেন। এই কান্নার অর্থ বা মাহাত্ম্য সবাই বুঝবেন না। এটা তিনি নিশ্চয় বোঝেন নিজে, কারণ তিনি ‘রোমন্থনের কবি’, আর বুঝি আমি, কারণ ওই সময়টায় আমি ‘বিষাদবৃক্ষ’ রচনার দুর্মর প্রহরগুলো কাটাচ্ছিলাম। এটা ২০০০ সাল, ২০০৩ এ ‘বিষাদবৃক্ষ’ তার পুস্তকশরীর পাবে। আমি বিষাদবৃক্ষের কবি হব। হঠাৎ একজন কাঁচা-পাকা দাড়িওলা প্রৌঢ়কে দেখে তপনদা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘আরে ভুডি, তুমি তো দেখি এক রকমই আছ।’ বুঝলাম, তপনদার ভুল হয়েছে। ‘ভুডি’ অর্থাৎ ভুডি গাজিকে আমিও চিনতাম। তিনি সেই সময়ের প্রায় পঁয়তিরিশ-চল্লিশ বছর আগে মারা গেছেন এবং বৃদ্ধ বয়সেই। যাকে তপনদা ভুডি বলে জড়িয়ে ধরেছেন, সে ওই ভুডি গাজিরই কনিষ্ঠপুত্র, সিদ্দিক গাজি। ও আমার চাইতে বয়সে কিছু বড় হলেও, আমাদের সঙ্গে ইশকুলে পড়ত। কথাটা একটু ফাঁকায় এসে তপনদাকে বলতে, বললেন, ‘তাই তো, কিন্তু ও যে একদম ওর বাপের চেহারা-অবিকল।’ বললাম, ‘সবায়’ নিরুত্তিয়াতে বলুন, ‘একদম’ নয়— ‘একছের’, এখানে আমি কইলকাইয়া কথা কই না।’ সেবারে, বহুকাল বাদে, কীর্তিপাশার বড় হিস্যার প্রাসাদের সামনে একটা বড় রকমের খুশির উৎসব যেন ভেঙে পড়েছিল। ওই রকম গ্রামে এত জনসমাগম রাজনৈতিক সভা সমাবেশেও হয় না। ইশকুলের সামনের মাঠে মঞ্চ বাঁধা হয়েছিল প্রকাণ্ড। রাস্তায় পর পর অন্তত তিনটি তোরণ সজ্জিত করা হয়েছিল। ইশকুলের ছেলেমেয়েরা, শিক্ষকেরা একের পর এক এসে প্রণাম করছিল বর্গবর্ণ নির্বিশেষে। একটি কিশোরী গান গেয়ে বরণ করল, ‘ঝরাফুলদলে কে অতিথি, এলে সাঁঝের বেলায় কানন বীথি।’ তপনদা বক্তৃতায় বললেন, ‘আমার অনুজপ্রতিম মিহিরের কল্যাণে এই তীর্থ দর্শন আমাদের সম্ভব হয়েছে। আপনাদের সকলকে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এবং প্রণাম। মিহিরকে আশীর্বাদ।’ আমার নামটার অহেতুক উল্লেখে আমি গৌরবান্বিত বোধ করেছিলাম। অস্বস্তিও।

Thursday, 7 May 2026

ভারতের প্রাচীন অতীত - রামশরণ শর্মা । BHARATER PRACHIN ATIT - RAMSHARAN SHARMA-translated into Bengali by Gautam Neogi & S S Jana

2.15 GB-61 TRACKS-SVH audiobook in Bengali for the Blind & Print-disabled students & teachers-University (West Bengal) syllabus for undergraduate COURSES IN ANCIENT Indian history-SVH recordist SUNANDA CHATTERJEE-unedited-files renamed by Hena Basu-uploaded by Hena Basu on 07 MAY 2026 from SVH Braille & Digital Audiobook Library, State Central Library WB, Kankurgachi, Kolkata 700054.

ArtistJamini Roy (1887–1972) Krishna Jasoda #art #everyone #painting #followersnonfollowers #artist

ArtistJamini Roy (1887–1972) Krishna Jasoda #art #everyone #painting #followersnonfollowers #artist