Tuesday, 12 May 2026
BANALIR KOLKATA SANSAR O SAMAJ-PRADIP NARAYAN GHOSH
আমি কলকাতা শহর নিয়ে বইপত্র পড়তে ভালোবাসি। আমার সংগ্রহে বেশ কিছু কলকাতার উপর বই আছে যার মধ্যে একটি প্রিয় বই হলো মহেন্দ্র নাথ দত্তের 'কলিকাতার পুরাতন কাহিনী ও প্রথা'। বইটির বড়ো গুণ এর ভাষা। বৈঠকি চালে বইটি লেখা। পড়ার সময় মনে হয় লেখক বুঝি বলছেন। মাস খানেক আগে এমনই একটি অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে লেখা বই হাতে এল। নাম 'বাঙালির কলকাতা: সংসার ও সমাজ'। লেখক প্রদীপ নারায়ণ ঘোষ।
বইটিতে মোট চারটি ভাগ আছে। একটি প্রাক্-স্বাধীনতা পর্ব আর অন্য তিনটি স্বাধীনতা- উত্তর চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশক, ষাটের দশক এবং সত্তরের দশক। প্রথম পর্বটিতে পারিবারিক নানা আকর্ষণীয় ঘটনার উল্লেখ আছে যার মধ্যে নতুন বউয়ের নতুন রীতির শাড়ি পড়া থেকে বিদেশি ভূতের কথা আছে। শরৎচন্দ্রকে নিয়ে ছ'টি লেখা আছে তেমনই আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, সি. ভি. রমন, বারীন্দ্রমোহন সালের মতো বিশিষ্ট মানুষদের অবদানের আলোচনা আছে। বঙ্গীয় জাতীয় শিক্ষা পরিষৎ, জাতীয় বিদ্যালয় , কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও এসেছে।
প্রথম পর্বের অনেকটাই পুরোনো মানুষজনের কাছে শোনা আর দ্বিতীয় পর্বের প্রায় সবই নিজের চোখে দেখা। এর মধ্যে পঞ্চাশের দশকে চালের জন্যে হাহাকার, কালীঘাট ফলতা রেলওয়ে, নয়া পয়সা বাঙালির মিষ্টি, ডাংগুলি খেলা ইত্যাদি নানা বিষয় এসেছে। ষাটের দশকে ঘটি বাঙালের ফুটবল, শান্তিনিকেতনের রতনকুঠি, দক্ষিণ কলকাতার গুণ্ডা সংস্কৃতি, বাংলা নাটক, বাংলা সিনেমা, নকশাল আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে সুখপাঠ্য স্মৃতিচারণ আছে।
সত্তর দশক পর্বে উত্তর কলকাতার অলিগলি, বাংলাদেশের সৃষ্টি, জরুরি অবস্থা ইত্যাদি জায়গা করে নিয়েছে।
বইটিতে কলকাতার তিনটি জায়গার কথা বিশেষ ভাবে এসেছে। একটি বৌবাজার অঞ্চলের ক্রিক রো, উত্তর কলকাতার শ্যামবাজার অঞ্চল আর দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাট-হাজরা অঞ্চল। মজার বিষয় হলো এই তিন জায়গাতেই আমি থেকেছি। ফলে তাঁর বেশ কিছু বর্ণনার সঙ্গে আমার স্মৃতি ও জড়িয়ে আছে। মাঝে দু' দশকের একটা দূরত্ব আছে। তাতে কিছু জিনিস বদলেছে কিন্তু আমূল পরিবর্তন হয়নি। এটা কলকাতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নতুন আসে কিন্তু পুরোনো অনেক কিছু থেকে যায়। যেমন খাটে ওঠার সিঁড়ি আর চিলেকোঠার ঘরে বড়ো পিসিমার হাতে লেখা গানের খাতা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment